তোমরাই হলে আশেকদের পথে আজাজিল।
“তাদেরকে যখন বলা হয়, ‘পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করো না’; তারা বলে, ‘আমরা তো সংশোধনকারী’। মূলতঃ তারাই অশান্তি সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা বুঝতে পারে না।” (সূরা বাকারা, আয়াত: ১১-১২)
‘যে ব্যক্তি মাথার চুল মুণ্ডন করেন, পোশাক-পরিচ্ছদ ছিড়ে ফেলেন বা চিৎকার করেন সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (হাদিস বুখারি-আস-সহিহ: ৬/২৭৪৮), হাদিস’টি জাবির রা. হতে বর্ণিত।
আমি মূলত ছোট বেলা থেকে’ই মোল্লাদেরকে ভিক্ষুক হিসেবে দেখে অভ্যস্ত, কারণ তাঁরা হাট-বাজারে, দোকানে, গাড়িতে, বাড়িতে বাচ্চাদেরকে দিয়ে চাঁদা আদায় করাতেন এবং এখনো করান। এর পরে বছরে দুই ঈদ, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহায় তাঁরা ফিতরা ও পশুর চামড়া নিতেন বা এখনো নিচ্ছেন, এটা নিয়ে আমার কখনো আপত্তি ছিলো না এবং থাকবেও না৷
কিন্তু এই বছর খানেক ধরে তাদেরকে সন্ত্রাস রূপে দেখা যাচ্ছে, তাঁরা মাদ্রাসার টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়, সুফি সাধকদের আখড়া লুটপাট ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করে আল্লাহর নামে ধ্বনি তোলে, দরবারের গরু-ছাগল, ডেগ-ডেকসি, ডিজেল জেনারেটর লাইট সহ আরও যা কিছু হাতের কাছে পায় সব নিজেদের বাপ দাদার সম্পত্তি ভেবে নিয়ে যায়।
করব থেকে লাশ তুলে লাশ পুড়িয়ে ফেলার মতন জঘন্য মানসিকতার পরিচয়ও ওরা দিয়েছে যা মধ্যযুগের বর্বরতাকেও হার মানায়৷
এখন আবার এই মোল্লাদের’ই একটা অংশ নিজেদেরকে নব্য নাপিত রূপে আবির্ভাব ঘটাইছে। এরা ইদানীং আপনার আমার খুব বড় শুভাকাঙ্ক্ষী সেজেছে, তাঁরা আপনার আমার ভালো করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। ওরা আমাদের জন্য এত’ই ভালো চাওয়া শুরু করে দিয়েছে যে আপনার আমার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে জোর জবরদস্তিতে নাপিত মোল্লার দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার কাজে লিপ্ত হয়েছে৷
এসব নাপিত মোল্লাদের উদ্দেশ্য করে’ই আল্লাহ বলেন “আর যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করো না’ তারা বলেন আমরা তো কেবল শান্তি স্থাপনকারী” (সূরা বাকারা/ আয়াত-১১)
নাপিত মোল্লারা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে আশেক পাগলদের টার্গেট করে তাদের লম্বা জটাক চুল জোর করে কেটে দেয় আর বলে..’চুল কেটে দিলে আপনার ভালো লাগবে’ কত বড় মূর্খ নাপিত মোল্লা। আশেক পাগলের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে তাকে সুন্দর করার দায়িত্ব তোমাকে কে দিয়েছে? তুমি কি আল্লাহর চেয়ে বেশি বোঝো? আল্লাহ বলেন.. “অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম গঠনে” (সূরা আত ত্বীন/ আয়াত- ০৪)
তুমি মোল্লা সুরতের কি বোঝো? তোমাকে চুল কাটার দায়িত্ব কে দিলো? আশেক পাগল কি তোমার কাছে সেবা চেয়েছে?আশেক পাগলের মাথার চুল কি তোমার সমাজ’কে নষ্ট করেছে? নাকি তোমাদের কাছে তার চুলে শ্যাম্পু করার টাকা চেয়েছে? তুমি তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে চেপে ধরে চুল কাটলে কেন? চুলে তোমার কি সমস্যা করেছে?
তোমার মতন মোল্লারা তো আশেকের পথে আজাজিল! তোমরা নবীর এর প্রকাশ্যে ও গুপ্ত শত্রু। নবী মুহাম্মাদের উম্মত পরিচয় দিচ্ছো এটা তোমাদের একটা চাতুরীপনা৷ তুমি মোল্লা, নবী মুহাম্মাদ সাঃ এর অনুসরণ করলে বাবরি চুল তোমার শত্রু হওয়ার প্রশ্ন’ই আসেনা৷
নবী মুহাম্মাদ সাঃ এর আগমনের পূর্বেও আরবের রীতি ছিলো পুরুষদের লম্বা চুল রাখা, এবং নবী মুহাম্মাদ সাঃ এর নেতৃত্ব কালেও সে রীতি অব্যাহত ছিলো, এমনকি নবী মুহাম্মাদ সাঃ নিজেও বাবরি চুল রাখতেন এর বহু দলিল রয়েছে।
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী পাওয়া যায় নবী মুহাম্মাদ সাঃ তিন রকম বাবরি রেখেছেন এবং আরও বর্ণনায় পাওয়া যায় তার চুল এত লম্বা ছিলো যে চুলে বেণী করে গুচ্ছ বানিয়ে রাখতেন। এ ব্যাপারে নবী সাঃ এর চাচাতো বোন উম্মে হানি রা. বলেন.. রাসুল সাঃ যখন মক্কায় আগমন করলেন, তখন তার চুলে চারটি গুচ্ছ বেণী ছিল, এবং প্রতিটি বেণী সুতা দিয়ে বাঁধা ছিলো। (তিরমিজি,আস-সুনান৪/২৪৬, আবু দাউদ,আস-সুনান ৪/৮৩)
এছাড়াও ইসলামের প্রথম সারির শাসক হযরত উমর তো দুবায়ি নামক এক বড় অপরাধীকেও তার প্রাপ্য সাজা কমিয়ে দিয়েছিলেন দুবায়ির বাবরি চুল থাকার কারণে। উমরের মতন কঠোর শাসক ইসলামে আর একটাও ছিলেন না, তিনি খুব সাহসী এবং ক্ষমতাবান ছিলেন, কুরআনের আইন ব্যাপারে তিনি ছিলেন অত্যান্ত কঠোর। আর সেই উমর যদি বাবরি থাকার কারণে অপরাধী ব্যাক্তির সাজা কমিয়ে দেন সেখানে তুমি মোল্লা বাবরি কাটার কে?
মূলত নাপিত মোল্লারা ইসলামের কেহ নয়, এরা সাধারণ মুসলমানদেরকে তাদের লেবাস দিয়ে আকৃষ্ট করে, নাপিত মোল্লারা নবী মুহাম্মাদ সাঃ এর জীবনের কোনো কিছুকে’ই কখনো ধারণ করেন নাই, এদের কিছু বললে ইসলামের ক্ষতি হবে, এদের অপমানিত করলে ইসলাম অপমানিত হবে এ ধারণা থেকে আমাদের বেড়ি আসা জরুরী, আমরা এ ধারণা থেকে বেড়িয়ে আসতে না পারলে ভবিষ্যতে আপনাকে আমাকে এই নাপিত মোল্লাদের আইনে পরিচালিত হতে হবে৷
লেখা: বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ






