বর্তমান সময়ে প্রচলিত ধর্ম পতিত হওয়ার কারণ।
বর্তমান সময়ে প্রচলিত ধর্ম পতিত হওয়ার জন্য দুটি বিষয় সব চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে বলে আমি মনে করছি৷ এক “নৈতিকতা বা আদর্শ নীতিমালা” আর দুই “মানসিক ক্ষমতা বা বুদ্ধিমত্তা” এ উভয়ের সমন্বয়ে’ই বর্তমানে ধর্ম কোণঠাসা হয়ে পরেছে৷
বুদ্ধিমত্তা প্রকাশ্যে বলিতেছে, কোনো ধর্ম’ই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলছে বা চলতে পারে উহা সত্য নহে। কারণ আজকে যুগের শৃঙ্খলা আগামী যুগের উশৃঙ্খল হিসেবে পরিচিতি পাবে’ই পাবে৷ কাজে’ই তোমাদের বুঝতে হবে যে ধর্ম উপদেশ যুগের উপর ভিত্তি করে’ই গঠিত হয়৷ তোমাদের জানা উচিৎ বর্তমান যুগের চেয়ে পূর্ব যুগের মানুষ আরও বেশি নিষ্ঠুর জাতি ছিলো। তখনকার সময়ে যিনি বেশি চালাক ও ক্ষমতাবান ছিলো তিমি’ই সমগ্র দুনিয়াকে ভোগ করে নিতো। আর যারা অবুঝ সহজ ছিলো তাঁরা পরগাছা হয়ে থাকতো,এবং নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হতো, এর ফলে দেখা যায় যে বেত্রাঘাত জুলুম দূর্বল লোকদের উপরে’ই আসতো।
এখন বোঝা যাচ্ছে যে, যেই যুগে ধর্মের আবির্ভাব হয়েছে ও ধর্ম কিতাব লিপিবদ্ধ করা হয়েছে সে’ই যুগের শিষ্টাচার ছিলো খুব’ই নাজুক প্রকৃতির৷ এখনকার সময়েও গোড়া ধর্মগুরুগণ বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে যুগের কালচার অস্বীকার করে তাঁরা সেই নাজুক শিষ্টাচার যুগের পিলিবদ্ধ হওয়া নিয়মকে’ই অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন, এবং বলে থাকেন যে এর বাইরে গেলে নরক যন্ত্রণা পেতে হবে৷ যার ফলে বর্তমান সময় এসেও সাধারণ ও সহজ মানুষদেরকে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নীতিগত বিবেকবান করা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনা৷
তাঁরা মধ্যে যুগ থেকে বেড়িয়ে আসতে চাইছেনা, তাঁরা সেই যুগের কালচার থেকে বের হয়ে আসতে পারছেনা, যুগের সাথে সাথে নিজেদের পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়ে উঠতে চায় না৷ ধর্মে লিপিবদ্ধ নিয়ম অনুসরণ করার দরূন মানুষ এখনো সঠিক বোধ খুঁজে পায়নি৷ এবার ধর্ম অনুসরণ করা নিয়ে কিছু কথা বলা যাক; ধর্ম এমনি এমনি’ই আসেনি, অবশ্যই যুগের প্রজ্ঞাবানদের হাত ধরে’ই ধর্ম এসেছে, তাহলে ধর্ম তো কখনো অযৌক্তিক হতে পারেনা।
ধর্ম তোমার যুগের সাথে না মিলতে পারে, কিন্তু উহা অবান্তর নহে, কোনো প্রজ্ঞাকে’ই অপ্রয়োজনীয় বলে আমি মনে করছিনা৷ এখানে তোমাদের দুটি বিষয় ভাবতে হবে, এক; কোনো প্রজ্ঞাই অপ্রয়োজনীয় নয়, আর দুই; যুগের সাথে প্রজ্ঞামতের তফাত তৈরি হবে’ই৷ এখন আসো যুগের ক্ষেত্রে তোমাদের ধর্ম মান্যতা কেমন হওয়া উচিত? তুমি যে কারুর’ই অনুসারী হতে পারো, তুমি যেকোনো আসমানী ধর্মগ্রন্থকে’ই মানতে পারো, তুমি শুধু খেয়াল রেখো তোমার মান্যকর ধর্মগ্রন্থটির কোন দিক এখনকার সময়ের জন্য মঙ্গল আর কোন দিক’টি এখনকার সময়ের জন্য অমঙ্গল তোমাকে তার সঠিক আইডেন্টিটিফাই করতে হবে৷ মঙ্গল অমঙ্গলকে শনাক্ত ক্ষেত্রে উদাহরণ স্বরূপ যদি আমরা প্রথমে মঙ্গলকে দেখতে চেষ্টা করি তবে’ই আমরা বুঝতে পারবো।
যেমন: প্রতিটি ধর্মই আদেশ করেন যে, অপরের হক নষ্ট করা থেকে বিরত থাকো৷ মিথ্যা বলা ও ছলনাকারীকে ঈশ্বর পছন্দ করেন না। এই যে উপদেশ দুটি রয়েছে এটি অবশ্য’ই ঙ্গলময়, এবং এটি অসমাপ্ত কালের জন্য’ই প্রযোজ্য হবে৷ এবার আমরা দুই একটি অমঙ্গলময় বিষয় খুঁজে দেখার চেষ্টা করি, যেমন: ধর্ম আদেশ করেন যে, যদি কোনো ব্যাক্তি ধর্ম অবমাননা করে তবে তাকে কঠিন সাজা দাও, যদি কোনো ব্যাক্তি ধর্ম গ্রহণ না করে তবে তাকে ধরে এনে জবানবন্দি নাও, ব্যক্তি ধর্ম গ্রহণ করেছে কিনা তা নিশ্চিত হও। আর বে-দ্বীন কাফেরদেরকে ধরে এনে হত্যা করো।
তুমি মুসলিম তাই জান্নাত তোমার জন্য, তোমার জান্নাতে অন্য কোনো জাতি প্রবেশ করতে পারবেনা, তুমি হিন্দু তাই স্বর্গ তোমার, তোমার স্বর্গে অন্য জাতীয় প্রবেশ করতে পারবেনা৷ এসকল বিষয় অবশ্য’ই গাদ্দারী ধারণা, যুগের সাথে এসব মত-পথ একত্র করে চলা কখনো’ই মঙ্গলময় নহে। উহা এখনকার সময়ে দুনিয়াতে অশান্তি সৃষ্টি করবে’ই করবে৷ বর্তমান সময়ে তুমি চাইলে’ই যাকে তাকে পাকড়াও করতে পারবেনা, কারণ এ অধিকার ধর্ম তোমাকে দিলেও যুগ তোমাকে দিবেনা৷
এখানে তুমি তোমার ধর্ম আদেশ’কে অমান্য করতে বাধ্য, যে যেই ধর্মের অনুসারী সে সেই ধর্মের মতন ভালো আর কোনো ধর্ম পাবেনা এটাই ঠিক, আর এই বিশ্বাসটা’ই হলো যুগের ভিত্তিকে এড়িয়ে যাওয়া, এর ফলে দেখা যায় যে একে অপরের সাথে শত্রুতা শুরু করে দেয়, যা অবশ্যই অমঙ্গল। তোমাদের ধর্ম পালনের ক্ষেত্রে যুগের শুভ অশুভ প্রভাবকে অবশ্য’ই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার বিশ্লেষণ করে চলতে হবে, তবে’ই তোমাদের ধর্ম আদর্শ মুগ্ধতা ছড়াবে৷
লেখা: বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ






