তোমাদেরকে অবশ্যই স্বাধীন ভাবে বাঁচতে হবে।

তোমাদেরকে অবশ্যই স্বাধীন ভাবে বাঁচতে হবে।

তোমাদেরকে অবশ্যই স্বাধীন ভাবে বাঁচতে হবে, দাঁড়াতে হবে মেরুদণ্ড সোজা করে নিজের পায়ে। মোহ মুক্ত চোখে দেখতে হবে জগৎকে, ধর্মের ঝঞ্ঝা মুক্ত হয়ে উন্মুক্ত মস্তিষ্কে বিচার করতে হবে জগতের ভালো এবং মন্দ দিক সমূহ। জগৎ প্রকৃতিকে প্রকৃতির মত করে’ই দেখতে হবে। প্রজ্ঞাদ্বারা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকণাকেও জয় করে নিতে হবে, সকল প্রকার প্রতিকূল পরিবেশের চোখে চোখ রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। ধর্মের দোহাই আর দৈবশক্তি অজুহাতের ফাঁদে পরলে চলবেনা।

মনে রাখতে হবে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে অনুসন্ধান করে দেখতে পারলে’ই সকল কিছুর আসল পরিচয় পাওয়া যাবে। ঈশ্বর বিষয়ে প্রচলিত ধর্ম কথায় কান দিওনা। এদের কথায় ঈশ্বরকে অনুভব করতে যাওয়া মানে’ই ঈশ্বরকে এক স্বৈরাচার হিসেবে পাওয়া। মোহ মুক্ত স্বাধীন মস্তিষ্কে ঈশ্বরের উপস্থিতি পেলে দেখবে ধার্মিকদের ঈশ্বর ধারণা নিছক কল্পনার আর বাতুলতা ছাড়া কিছুই নয়। আমি দেখতে পেয়েছি সচেতন জীবের শোচনীয় পরাজয়, তাঁরা মসজিদ, মন্দির, গীর্জায় গিয়ে নিজেদের পাপ মোচনের জন্য কত রকম ভাবে হাতজোড় করে ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকে।

এটাকে আমি অবশ্য’ই পরাজয় বলবো, কারণ সচেতন জীবের পাপ’কে মোচন করবে ঐ গৃহ? তোমার চেয়ে দামি আর কোন গৃহ রয়েছে? আমি তোমাদেরকে একটি মঙ্গলময় জগৎ সৃষ্টি করার কথা বলতে চাই, যে জগতে থাকবে সকল প্রকার মানুষ, আর ধর্ম বলতে থাকবে আপন স্বভাবকে পরিবর্তন করা, এবং তাদের মূল লক্ষ্য থাকবে, সাহস, প্রজ্ঞা ও দয়াবান হওয়া, এ তিনের সাধন করে যাওয়া’ই হবে তাদের ইবাদত। ধর্মের কট্টরপন্থীদের তোমরা মানসিক রোগী বলতে পারো, কারণ তাঁরা অকারণে’ই মনের মধ্যে এক ভয় পুষে রাখে, বর্তমান ফেলে তাঁরা পরকালের ভয় নিয়ে চিন্তিত, এজন্য’ই তাঁরা সকল প্রকার দুঃখ দূর্দশার মূল। এরা মানবজাতির জন্য এক অভিশাপ, এরা মানুষের মস্তিষ্কে এক অজ্ঞাত ভয় ঢুকিয়ে দেয়।

তোমাদের মনে রাখতে হবে, যারা ভয় নিয়ে চলে তাঁরা কখনো কোনো কিছুকে’ই জয় করে নিতে পারেনা, তাঁরা সারাজীবন পরাজয়’কে বরণ করে থাকে। আমি দেখতে পেয়েছি বর্তমানে ধর্মকে খুব হাল্কা বানিয়ে দিয়েছে কট্টরপন্থীরা, তাঁরা জানেনা ধর্মকে কোন অর্থে বা কোন ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হবে। একটু খেয়াল করলে’ই দেখতে পাবে যে ওরা বলে থাকে ঈশ্বর হায়াত যতদিন দিয়েছেন, ঠিক ততদিনে মরণ নেই। কিন্তু তাদেরকে যদি বলা হয় যে আপনি ঈশ্বরের উপর ভরসা রেখে কুমিরের সামনে গিয়ে দাঁড়ান, তখন দেখবে তাঁরা কোনো ভাবে’ই দাঁড়াতে রাজি হবেনা। কারণ এরা মনে মনে এটাই বিশ্বাস করে যে আমাকে কুমির খেয়ে ফেলবে, তুমি যদি বিশ্বাস করে’ই থাকো যে কুমির তোমাকে খেয়ে ফেলবে তা হলে তুমি এখানে ঈশ্বরের দেয়া হায়াতের দোহাই না দিলেই তো পারো? এরা মূলত জানেই’না যে এখানে ঈশ্বরের দেয়া হায়াতের অজুহাতে দেখানো উচিৎ নয়।

আমি তোমাদেরকে এর আগেও বলেছি, ধর্ম মূলত একটি সামাজিক বিষয়। এটি যুগের উপর ভিত্তি করে’ই প্রজ্ঞাবানেরা একটি জীবন ব্যাবস্থা তখনকার মানুষদের উপর দিয়েছিলেন। তখনকার মানুষেরা কিভাবে চলবেন তার একটি রূপরেখা তৈরি করেছিল প্রজ্ঞাবানেরা। এখন যদি তোমরা আমাকে বলতে চাও যে ধর্ম ঈশ্বরের দেয়া, অবশ্য’ই আমি তাতেও রাজি আছি কিন্তু তা অন্য অর্থে। আমি যদি তোমাদের সুরে বলি যে, হ্যাঁ ধর্ম এক ঈশ্বর’ই দিয়েছেন, তবে সেখানে একটি প্যাঁচ লেগে যায় যেমন, মন্দির, মসজিদ এবং গীর্জা। পুরাণ, কুরআন এবং বাইবেল আর হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান নাম দেওয়া হয়েছে।

আমার প্রশ্ন ঈশ্বর তো এক? তাহলে এই ভিন্ন ভিন্ন নাম আর ভিন্ন ভিন্ন ঘর এবং ইবাদতের কৌশলও ভিন্ন ভিন্ন দিলো ক্যান? একই ঈশ্বর কী দুই তিন মতাদর্শের হতে পারেন? যদি সে দুই তিন মতাদর্শেরও হয়, তবে হিন্দু ঠিক হলে কেন মুসলিম ঠিক নয়? মুসলিম ঠিক হলে কেন খ্রিষ্টান ঠিক নয়? একে অপরকে খাঁটি আর ভেজাল বলে গলা ফাটানো হবে কেন? আমি মূলত তোমাদেরকে বুঝাতে চাচ্ছি যে, ধর্ম যুগে যুগে প্রকাশ পেয়েছে বিভিন্ন প্রজ্ঞাবানদের দৃঢ়বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে, তখন যার আমলে যেমন বিশ্বাস স্থাপন করানোর দরকার ছিল, তখন সে ঠিক সেই মতাদর্শকে’ই প্রচার করেছিলেন।

কিন্তু এখন তোমরা তা যুগের রূপরেখা না মেনে উহাকে ঈশ্বরের পূজ্য হিসেবে গড়ে তুলেছো। মূলত স্বর্গ এবং নরক গড়ে উঠেছে ঐ যুগে যারা আনকালচার ছিলো তাদেরকে কালচারালে প্রবেশ করাতে গিয়ে এই স্বর্গ নরক দাঁড় করাতে হয়েছিল। আনকালচার ব্যাক্তিদের যদি একটা নরক নামক ভয়ের স্থান না দেখানো হতো তবে তাঁরা কোনো ভাবে’ই কালচারালে প্রবেশ করতোনা। এবং ভয়ের বিপরীতে যদি একটি স্বর্গ নামক আনন্দের স্থানকে দাঁড় না করানো হতো, তবে তাঁরা কালচারাল বেশি দিন ধরে রাখতে চাইতোনা। এবং আমি এখনো মনে করি যে আনকালচারদের কালচারালে প্রবেশ করানোর জন্য অবশ্যই স্বর্গ এবং নরক থাকার দরকার আছে।

কিন্তু কট্টরপন্থীরা বর্তমান সয়মে এসেও স্বর্গ-নরক ব্যাপারটাকে আগের তুলনায় অনেক বেশী ভয়ংকর করে দিয়েছে। যা ঐ যুগের মানুষদের জন্য রূপকথার গল্প সাজানো হয়েছিল, তা এই যুগে এসে কট্টরপন্থীরা বাস্তব হিসেবে দেখাতে চাইছে। মনে রেখো তুমি চাইলে’ই সর্বক্ষণ একটি কাল্পনিক ভয়কে তোমার সঙ্গে রাখতে পারো।

কিন্তু এতে তোমার দ্বারা কোনো কিছু’ই করা সম্ভব হবে না, যেমন তুমি ঘরের ভিতরে থেকে সারা দিন একটি সাপকে তোমার দরজার সামনে বসা এটি কল্পনা করতে’ই পারো এবং তুমি বের হলে সাপ তোমাকে দংশন করবে এ ভয়ও তুমি মনে পুষে রাখতে পারো, তবে এতে ফল কি? ফল এই যে তুমি সারাজীবন ঘর বন্দী হয়ে থাকবে। আর যারা মনে এসব কল্পনার ভয় রাখেনা তাঁরা কেহ’ই ঘরে থাকেনা, এবং তুমি তাকিয়ে দেখতে পারো যারা ভয় রাখেনি তাঁরা’ই জগতকে জয় করে নিয়েছে।

লেখা: বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ

আরো পড়ুনঃ