মল্লিকা জিজ্ঞাসা করলেন- আমাদের কোন ধর্মকে অনুসরণ করা উচিত?
মল্লিকা জিজ্ঞাসা করলেন:– পথিক, কোন ধর্মকে আমাদের অনুসরণ করা উচিত? এবং কোন ধর্মকে আমাদের এড়িয়ে চলা উচিত?
জবাবে আমি বললাম:– যে ধর্ম সর্বদা কলহ মুক্ত এবং প্রেম-স্নেহ, দয়া ও ক্ষমার স্থন উন্মুক্ত রাখে সেই ধর্মকে’ই তোমাদের অনুসরণ করা উচিত। আর যে ধর্ম তোমাদেরকে দায়া, ক্ষমা ও প্রেমের স্থান দিবেনা সেই ধর্মকে অবশ্য’ই পরিত্যাগ করা উচিত।
মল্লিকা বললেন:- ঈশ্বর প্রকৃতি হওয়ার জন্য সর্বপ্রথম আমাদের কী করা উচিত?
আমি বললাম:- তোমরা যতক্ষণ পর্যন্ত সচল ব্যাক্তি ও ক্ষমতাবান এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমাদের সম্মুখে মৃত্যুর এসে দাঁড়ায়, ঠিক ততক্ষণ পর্যন্ত নিজেদেরকে সৎ কাজে নিয়োজিত রাখবে, যদি ঈশ্বর প্রকৃতি হতে চাও।
মল্লিকা বললেন:- আমরা সবাই কেন ঈশ্বর প্রকৃতি হতে পারিনা?
আমি বললাম:- অবশ্য চেষ্টা করে সবাই ঈশ্বর প্রকৃতি হওয়ার জন্য, কিন্তু লোক দেখানো সৎ হতে গিয়ে তাঁরা তাদের মূল নষ্ট করে ফেলে। সমুদ্রের বাঁধ যতটুকু না অনিশ্চিত, তার চেয়েও বেশি অনিশ্চিত লোক দেখানো সৎ মানুষের ঈশ্বর প্রকৃতি হওয়া।
মল্লিকা বললেন:– আমাদেরকে সৎ হওয়ার জন্য কোন কোন মানুষের সংস্পর্শে থাকা উচিত না?
আমি বললাম:- যারা শ্রেষ্ঠ চরিত্রকে তিরস্কার প্রদান করেন, আর সহজ ব্যক্তিকে কষ্ট প্রদান করে। কুমিরের সংস্পর্শে থাকা নিরাপদ কিন্তু এই মানুষদের সংস্পর্শে থাকা নিরাপদ নয়, কারণ কুমির প্রতিদিন মানুষ খায় না, কিন্তু এই ধরণের মানুষেরা প্রতিদিন তোমাদেরকে খাবে অর্থাৎ, অসৎ হওয়ার জন্য উৎসাহ দিবে৷
মল্লিকা বললেন:- আমাদের ঈশ্বর প্রকৃতি নষ্ট করে দিতে পারে এমন কনো জিনিষ আছে কি?
আমি বললাম:- হ্যাঁ, আছে, মহা সমুদ্রের যেমন মর্যাদা রয়েছে, ঠিক তেমন’ই তার মর্যাদাকে বিনষ্ট করার জন্য প্রবল জলোচ্ছ্বাসের প্রলয়’ই যথেষ্ট। একই ভাবে ঈশ্বর প্রকৃতি মানুষ যেমন মর্যাদাবান, ঠিক তার মর্যাদা ও ঈশ্বর প্রকৃতি রূপ বিনষ্ট হওয়ার পূর্বে আমিত্ববোধের আগমন ঘটে৷
মল্লিকা বললেন:- আচ্ছা পথিক, আমি এতক্ষণ আপনার সাথে ছিলাম এবং আলাপ করলাম, এবার আপনি আমার ব্যাপারে কিছু বলুন৷
আমি বললাম:- তুমি অনেক বোকা, কিন্তু নিজেকে চালাক ভাবো, এটি অবশ্য’ই তোমার খারাপ দিক।
মল্লিকা বললেন:- আমি এমন কি আচরণ করেছি যা দেখে আপনি আমাকে বোকা এবং আমি নিজেকে চালাক মনে করি বলতে পারেন?
আমি বললাম:- না, আসলে’ই তুকি সেরকম নয় যেরকম’টা আমি তোমাকে বলেছি৷ মূলত আমি তোমাকে সীমিত তিরস্কার করতে’ই এসব বলেছি, কারণ এই সীমিত তিরস্কারের দরুন তোমার মাঝে যে সব গুণ লুকিয়ে আছে সেগুলি বিকশিত হবে। আমি চাইলে তোমাকে তোমার ব্যাপারে অনেক গুণ বলতে পারতাম, কিন্তু এতে তোমার বেশকিছু দোষ উৎপন্ন হবে তার মাঝে অন্যতম আমিত্ব।
মল্লিকা বললেন:- পথিক! বলুনতো আমি আপনার সাথে এতক্ষণ কেন আলাপ করলাম?
আমি বললাম:- পাখিরা তো কখনো ফলহীন গাছে ভোজন উৎস করেনা? ঠিক তোমরাও তেমন অকারণে কারো সাথে এত কথা বলার জন্য আসবেনা।
লেখা: বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ






