মানুষ যেকারণে শ্রেষ্ঠ জীব
প্রায় প্রতিটি ধর্মে মানুষের স্থান পেয়েছে শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে। আবার কখন ও কখনো কবি নজরুল এর মতো সুফি ভাবনার ও সাম্যবাদী কবি সাহিত্যিকদের লেখায় মানুষকে দেবতার স্থান ও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেনো। মানুষের মাঝে ঠিক কি আছে যা তাকে এতো উঁচু জায়গায় স্থান দিয়েছে।
মানুষ কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মানুষকে দেবতার ও ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন। আবার ফকির লালন এর মাঝারের সামনে লেখা আছে “মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি”। সকল ধর্মেই মানুষ শ্রেষ্ঠ। কেনোনা সৃষ্টিকর্তার প্রতিনিধিই মানুষ। কোনো ধর্মেই স্রষ্টা সরাসরি মানুষের কাছে ধর্ম নিয়ে আসেন নি। তিনি মানুষকে তাঁর প্রতিনিধি রূপে নির্বাচিত করেছেন। তারপর এই মানুষের মাধ্যমেই সকল ধর্ম আর দর্শন পৃথিবীতে এসেছে।
সৃষ্টিকর্তা তো সর্ব শক্তিমান। তিনি তো চাইলেই নিজে এসে মানুষের কাছে তার ধর্ম প্রচার করতে পারতেন। তিনি তো তা করেন নি।
সকল ধর্মেই এসেছে যে “তুমি নিজেকে চেনো। নিজেকে চিনলে প্রভুকে চিনবে”। এ কথার মাঝে লুকিয়ে আছে এক গভীর উপলব্ধির বিষয়। সৃষ্টি জগতের প্রতিটি প্রাণীর মাঝে নফস তথা জীবআত্মা বিরাজমান। যা ক্ষুদা, অহংকার, লোভ ইত্যাদির ধারক। মানুষের মাঝে ও এ নফস বিদ্যমান। তবে মানুষকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব করেছে যে বিষয়টি সেটি হলো রুহ তথা পরমআত্মা। পরমাত্মা স্বয়ং সৃষ্টিকর্তার অংশ। কোরআনে আল্লাহ বলেছেন “আমি আমার রুহ থেকে আদমের মাঝে রুহ ফুকে দিলাম”। কেউ কেউ বলে রুহ আল্লাহর নিশ্বাস আবার কেও বলে আল্লাহর আদেশ। মূলত রুহ হলো স্বয়ং আল্লাহ নিজেই তিনি আমার আপনার মাঝে বিরাজমান। তাইতো মানুষ সর্বশ্রেষ্ঠ। মানুষের অন্তোরেই স্রষ্টা বাস করেন। ঠিক এখন থেকেই তিনি সকল কর্মকে পরিদর্শন করেন।
মানুষ চাইলে স্রষ্টার সন্ধান পেতে পারে। মানুষের জন্য এ রাস্তা খোলা আছে। অন্য প্রাণীরা সেটা পারে না। নিজের ভেতরে স্রষ্টাকে খুজতে হয়। বাইরের বই পড়ে জ্ঞান পাওয়া যাবে কিন্তু আল্লাহকে পাওয়া যাবে না। নিজের ভেতরে খুজতে হবে। তবেই সার্বজনীন সৃষ্টিকর্তার সন্ধান পাওয়া যাবে।
সৃষ্টিকর্তা সার্বজনীন। আল্লাহ ভগবান ঈশ্বর তো নাম মাত্র। কিন্তু মূলে তো একজন। তাই সৃষ্টিকর্তাকে পাওয়ার অধিকার ও সার্বজনীন। সকল ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে যে কেউই সৃষ্টিকর্তাকে নিজের মাঝে উপলব্ধি করতে পারেন।
সৃষ্টিকর্তা যেমন সার্বজনীন তেমনি তাকে খোজার পথ ও সার্বজনীন। যে কেও এ পথ অনুসরণ করতে পারে। মিশে যেতে পারে স্রষ্টার মাঝে। সার্বজনীন ঈশ্বরকে খুজতে কোনো নিদির্ষ্ট ধর্মের প্রয়োজন নেই। শুধু শর্ত একটাই। সেটা হলো ধ্যান। একমাত্র ধ্যানী পারে স্রষ্টার সাথে যোগাযোগ করাতে।
– AR Junayed Hasan






