শয়তানকে গালি দিয়ো না : (গুরু-শিষ্য কথোপকথন)

শয়তানকে গালি দিয়ো না : (গুরু-শিষ্য কথোপকথন)

শয়তানকে গালি দিয়ো না
রচনা: ফকির জুয়েল সাধু।

স্থান: আখড়ার ধূলিধূসর ছাউনিতে। অমাবস্যার রাতে, গভীর নীরবতা গা ছমছমে হটাৎ করে
জুয়েল (অস্থির হয়ে):-

গুরু, আমার ভিতরে যেন একটা শয়তান বাস করে!
কিছুতেই মানে না সে… কামে জ্বলে, রাগে ফেটে পড়ে।
আমি বহুবার চেষ্টা করেছি দমন করতে, কিন্তু ব্যর্থ!

ক্ষ্যাপা লাল সাঁই (চোখ বন্ধ করে সিদ্ধির ধোঁয়া টানেন):

জুয়েল শয়তানকে কখনো গালি দিস না।
সে তোর দুঃখ নয়, সে তো ঈশ্বরেরই ছায়া।

জুয়েল:
ঈশ্বরের ছায়া! বাজান পাপ, রাগ, কাম – এ তো সর্বনাশ!

সাঁই (হালকা হাসিতে)বললেন:
তোকে একটা কথা বলি, মন দিয়ে শুন।

যার ভিতরে শয়তান জাগে না, তার ভিতরে ঈশ্বরও জাগে না।
কারণ ঈশ্বর জাগে তখনই, যখন শয়তানের আগুনে তুই হাঁসফাঁস করিস।
সে আগুন না জ্বললে তোর ভিতরের প্রেমের নদী খুঁজবি কোথা থেকে?

শয়তান মানেই ঈশ্বরের কাজের লোক

রাগ ও কাম এইগুলো ঈশ্বরের এলার্ম

তোর ভিতরে যখন আগুন জ্বলে
তা ‘খারাপ’ নয়।
ওগুলো হলো “জাগরণের সংকেত”।

ঈশ্বর জাগিয়ে দিতে চায় তোর গভীর চেতনাকে।
তাই শয়তান এসে কামে ফুঁ দেয়, রাগে ঝাঁকি মারে।

জুয়েল শোন যদি এই রাগ-কামকে শুধু দেখিস,
তাদেরকে নাম না দিয়ে, চেতনার ঢেউ হিসেবে অনুভব করিস
তাহলেই তুই তোর ভিতরের আসল আলো দেখতে পাবি।

আরো পড়ুনঃ