‘আমি চাই’ হ্যাঁ, তুমি চাও এবং চাইতে থাকো।
‘আমি চাই’ হ্যাঁ, তুমি চাও এবং চাইতে থাকো, চাওয়াতে কোনো অলসতা থাকা চলেনা, আমি নিজেও তোমার মতন করে সব কিছুকে’ই চাইতাম। আমার এটা চাই,আমার ওটা চাই, আমার এটা থাকতে হবে,আমার ওটা থাকতে হবে,এমন হাজারো চাওয়া থাকে এবং থাকবে’ই কারণ চাওয়ার কোনো শেষ নাই।
সত্যি কথা বলতে কি, তোমার এই চাওয়া’টা অপরকে বিরক্ত করতে সক্ষম হলেও, তোমার চাওয়া তোমাকে কখনো বিরক্ত করতে সক্ষম হয়ে ওঠেনা,অথচ তোমার চাওয়া কিন্তু অপরের চেয়ে তোমাকে’ই বেশি যন্ত্রণা দিয়ে থাকে।
আমি ছোট বেলায় আমার বাবার নিকট একটি বায়না ধরেছিলাম আমাকে খেলনা মোবাইল কিনে দিতে হবে এবং এ মোবাইল আমি চাই আমাকে দিতে’ই হবে।
বাবার কানের কাছে সারাক্ষণ এই মোবাইল মোবাইল করাতে বাবা রাগ করে আমাকে ধমক দিয়ে বললেন তোমার এই এক-ই সুর সারাক্ষণ চলছে’ই! যাও এখন ঘুমাও কাল সকালে কিনে দিবো,এটা বলে বাবা ঘুমিয়ে গেলেন, কিন্তু আমি সারা রাত ঘুমাতে পারিনি, কখন সকাল হবে এবং কখন আমি এই মোবাইল কিনবো।
আমার এ গল্প পড়ে তুমি হাসছো? আসলে এটা আমি নই, মুলত এটা তুমি’ই। হ্যাঁ আমি তোমাকে’ই বলছি, যে কিনা খেলনা মোবাইলের জন্য বাবাকে বিরক্ত করলেও নিজে’ই সারা রাত ঘুমাতে পারেনি।
তুমি হয়তো এখন বলতেছো হ্যাঁ, এটা তো আমি ছোটবেলাতে অনেকবার করেছি।
কিন্তু আমি আশ্চর্য হয়েছি যে, তুমি এখনো এটিকে ছোটবেলার কর্মকাণ্ড মনে করে বসে আছো! তুমি এখনো বুঝতে চেষ্টা করোনি যে, এ চাওয়া কেবল ছোট বেলাতে’ই সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে বিষয়’টি এমন নয় বরঞ্চ
চাওয়াটি দিন দিন আরও বড় আকার ধারণ করেছে। তোমার চাওয়া এখনো শেষ হয়নি,
তুমি এখনো মার্কেটে একটি নতুন ডিজাইনের পোশাক দেখে রাতে ঘুমাতে পারোনা, তুমি এই ভাবনায় অস্থির হয়ে থাকো যে কখন সেই পোশাক’টি কিনে ঘরে নিয়ে আসবে এবং কখন তা লোকেদের দেখাবে।
এভাবে’ই তোমার চাহিদা স্তরে স্তরে ক্রমাগত বড় হতে থাকে,এবং এক চাওয়া পূর্ণ হতে না হতে’ই অন্য চাওয়া সামনে এসে হাজির হয়। তুমি তোমার জীবদ্দশায় কখনো চাওয়া শূন্য হয়ে থাকতে পারবেনা। আর এজন্য তুমি চাইলেও কখনো ‘আমি চাই’ ব্যাপারে নিজেকে পূর্ণ তৃপ্তি দিতে পারবেনা,কারণ এক চাওয়া পূর্ণের পর আর এক নতুন করে ‘আমি চাই’ এসে জন্ম নেয়।
‘আমি চাই’ তোমাকে কখনো মুক্তি দিবেনা যদি তুমি একে প্রশ্ন করতে না জানো। তোমাকে এর থেকে মুক্তি অর্জন করতে হলে ‘আমি চাই’ এর মাঝে হারিয়ে যাওয়া চলবেনা। তোমাকে শুধু নিরপেক্ষ ভাবে একে অনুধাবন করে যেতে হবে এবং জিজ্ঞাসা করতে হবে আমি কেন চাই? এটা না হলে আমার কি হবে? এসব প্রশ্ন কালে তুমি যদি তোমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারো তবে তুমি পরিস্থিতি কখনো’ই সামাল দিতে পারবেনা।
তুমি শুধু ‘আমি চাই’ ভাবনাকে থামাও, তাহলে’ই স্বর্গে বাস করবে ‘আমি চাই’ থেমে গেলে’ই বাকি সব কিছু শান্তির এবং পরিতৃপ্তির আর ‘আমি চাই’ ভাবনাকে থামানো’ই হচ্ছে শান্তি এবং পরিতৃপ্তি অর্জনের একমাত্র পথ। প্রতিটি বুদ্ধ শান্তি ও পরিতৃপ্তিতে স্বর্গলাভ করেছে শুধু মাত্র ‘আমি চাই’ ভাবনাকে নিরপেক্ষ ভাবে অনুসন্ধান করতে পেরে।
যে’ই বোধের চরম অবস্থানে যায় সে’ই বুদ্ধ হয়। তুমি যদি বোধের চরম অবস্থানে পৌঁছে যাও তাহলে তুমিও চাওয়ার কথা ভুলে যাবে এবং তুমি বুঝে যাবে এই চাওয়া তোমাকে প্রতিমুহূর্তে’ই যন্ত্রণা দিয়ে থাকে।
_বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ






