মিশে যাওয়ার মহিমা

মিশে যাওয়ার মহিমা

যার প্রাণ আছে, জ্ঞান আছে, বুদ্ধি আছে—সে কেবল বেঁচে থাকে না, সে মিশে যেতে জানে। “মিশে যাওয়া” কোনো আত্মসমর্পণ নয়, এটি এক গভীর সক্ষমতা, যা সীমাকে ছুঁয়ে, সময়কে অতিক্রম করে। এটি নিঃশব্দ এক বিকাশ—নিজেকে ভাঙা, গলানো, বিলীন করে দেওয়া এমন একতাবোধে, যা সৃষ্টি করে নতুন সত্তা, নতুন পরিচয়।

একটি টিস্যু পেপার ছুড়ে দিলে, তা বাতাসে উড়ে যায়, জলে গলে মিশে যায়, কখনো আগুনে পুড়ে যায়—সে আর নিজের থাকে না, সে হয়ে ওঠে উপাদান। যে ব্যক্তি এইভাবে নিজের “আমি” বোধকে ভেঙে অন্যের মধ্যে মিশিয়ে দিতে পারে, সে-ই প্রকৃত অর্থে অ-সামান্য। এই মিশে যাওয়া মানে হারিয়ে যাওয়া নয়, বরং বৃহত্তর সত্তায় যুক্ত হওয়া।

জগতে প্রত্যেকেই একরকম ভূতের মতই—অতীতের, ভবিষ্যতের, ভাবনার, দুঃখের, অহংকারের ভূত। কিন্তু যে ব্যক্তি নিজের ভূতত্বকে অতিক্রম করে অন্য মানুষে মিশে যেতে পারে, সহানুভূতিতে, প্রেমে, দানে, সে-ই হয় মহামানুষ। আর যে ঈশ্বরের প্রেমে আত্মাকে মিশিয়ে দিতে পারে, সে হয় অবতার—যার জীবন আর নিজের থাকে না, মানুষের জন্য উৎসর্গিত হয়।

মিশে যাওয়ার ক্ষমতা আত্মার পরিণতি। বৃক্ষ মাটিতে মিশে বৃক্ষ হয়, বৃষ্টি মেঘে মিশে আকাশ, প্রেম দুটি আত্মায় মিশে সৃষ্টি করে পূর্ণতা। বিপরীতে, বিচ্ছিন্নতা জন্ম দেয় বিভাজন, সংঘাত, দম্ভ।

তাই যিনি নিজেকে বিলীন করতে পারেন, যিনি অহং এর সীমানা ছাড়িয়ে যেতে পারেন, তিনিই পরিণত মানুষ। তিনিই জানেন—“আমি” বলে কিছু নেই, শুধু “আমরা” আছে। ঈশ্বরত্ব, মহত্ব, মানুষত্ব—সবই এক অনন্ত মিশে যাওয়ার ভেতরেই নিহিত।

এই মিশে যাওয়া—নীরব, নির্ভীক, নিঃস্বার্থ—তাই চূড়ান্ত শক্তি। যিনি তা জানেন, তিনি আর কিছু নন—তিনি পথ, তিনি ধ্যান, তিনি মুক্তি।

– ফরহাদ ইবনে রেহান

আরো পড়ুনঃ