কোনো ধর্ম কিতাব পড়ে মহা পণ্ডিত হওয়ার পক্ষে আমি নই

কোনো ধর্ম কিতাব পড়ে মহা পণ্ডিত হওয়ার পক্ষে আমি নই।

কোনো ধর্ম কিতাব পড়ে মহা পণ্ডিত হওয়ার পক্ষে আমি নই, কারণ প্রাচীন ইতিহাস আর পৌরাণিক শাস্ত্র পড়ে হয়তোবা একজন ভালো স্কলার হওয়া যাবে, কিন্তু এসব দিয়ে কখনো জীবনের মানে খুঁজে পাওয়া যাবে না, তাই ঐসব আমার কাছে অর্থহীন মনে হয়, এজন্যই আমি সর্বদা বর্তমানের উপর ভাবতে চাই এবং যা এখন এই মুহূর্তে বিদ্যমান।

তুমিও যদি আমার মতন জীবনের মানে বুঝতে চাও তাহলে তুমি শুধু মাত্র তোমার জীবনের দিকে তাকাও, তুমি ব্যাতিত অন্য কারো জীবনের দিকে তাকিয়ে কোনো লাভ নেই, কারণ জীবন হলো সেই বাস্তবতা যা সর্বদা বিদ্যমান এবং যেকোনো মুহূর্তেই সকল কিছুর ভাগিদার।

তোমার জীবনের উপস্থিত অবস্থায় যা কিছু আসে এবং পূর্বের দিনে যখন যাহা বাস্তবতায় ঘটেছিলো সে-সকল বিষয় সমূহকে অনুধাবনের মাধ্যমে তুমি তোমার মনকে খুব সহজেই পরিক্ষিত করতে পারবে। এবং বুঝতে পারবে তোমার জীবনে পূর্বে যাহা কিছু এসেছিল তাহা বর্তমান সময়কে চ্যালেঞ্জ করে কিনা?

তুমি তোমার জীবনে যতগুলো পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত নিবে এবং সেগুলিকে কর্মে রূপান্তর করার আগে তুমি যদি তার যৌক্তির কারণ অনুসন্ধান করে যৌক্তিক কারণ খুঁজে পেয়েই যাও, তাহলে তুমি দেখতে পাবে সে সকল বিষয়ে অবশ্যম্ভাবীভাবে ফল পেতে শুরু করে দিবে, আর পৃথিবীর এমন কোনো শক্তিই নেই যে কিনা তোমার গন্তব্যে পদচারণা থেকে নিবৃত্ত করতে পারে।

মনে রাখবে, তুমি তোমাকে চেনার জন্য কোনো ধর্ম পন্ডিত হতে হবেনা, এবং হতে হবেনা কোনো পৌরাণিক শাস্ত্রবীদও। তুমি শুধু তোমার জীবনের দিকে তাকাও, আর নোট করে নাও বর্তমান সময়কে, কারণ ব্রহ্মাণ্ডে তারাই সফল হয়েছে যারা তাদের প্রতিটি শব্দের, প্রতিটি নিশ্চুপ মুহুর্তের, প্রতিটি পলকের অর্থ খুঁজে পেয়েছে, আর এরাই জগতের জন্য বহু নতুন পট তৈরি করে দিয়েছে যাহা সাধারণের চর্মচক্ষু দিয়ে অবলোকন করা যায় না, কারণ এসব দেখার জন্য ভিন্ন ধরনের দৃষ্টি প্রয়োজন।

লেখা: বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ

আরো পড়ুনঃ