অতলের হাসি

অতলের হাসি

অতলের হাসি
-ফকির জুয়েল সাধু।

মস্তিষ্ক নয় শুধু ধূসর ভাঁজের পাহাড়,
একটা অনন্ত গহ্বর যেখানে তারা জন্মায় না, মরেও না।
৮৬ বিলিয়ন নিউরন, প্রত্যেকে ১০ হাজার হাত বাড়িয়ে
একটা অদৃশ্য জাল বুনে চলেছে
জাল নয়, সমুদ্র; সমুদ্র নয়, শূন্যতা যা নিজেকে ভরে রাখে।

আমি নেমেছি সেই অতলে, আলো নিয়ে, প্রশ্ন নিয়ে,
ভেবেছি এবার বুঝব, এবার ধরব।
কিন্তু প্রতিবারই সে আমার দিকে ফিরে তাকায়
নির্লজ্জ চোখে, যেন বলে: “তুই যা দেখছিস, তা আমার ছায়া মাত্র।
আমার আসল গভীরতা তোর চোখের আড়ালে লুকিয়ে আছে।”

চেতনা কোথায় জন্মায়? পেছনের লোবে, যেখানে দৃশ্য জন্ম নেয়?
নাকি সামনের লোবে, যেখানে চিন্তা নিজেকে প্রশ্ন করে?
বিজ্ঞানীরা বলে এখনো জানি না, জানবও না হয়তো কখনো পুরোটা।
কারণ যে মস্তিষ্ক নিজেকে বোঝার চেষ্টা করে,
সে নিজেরই একটা অংশ দিয়ে নিজেকে দেখতে চায়
আয়নার মধ্যে আয়না, অনন্ত প্রতিফলন, কোনো শুরু নেই, শেষ নেই।

এই গভীরতা ভয়ংকর কেন?
কারণ এখানে আমি আর তুমি আলাদা নই?
একই অতলের দুটো ঢেউ, যারা ভাবে তারা আলাদা।
এখানে স্মৃতি জমে না, ভেঙে পড়ে;
আবেগ জ্বলে না, ছাই হয়ে উড়ে যায়;
আর চেতনা? সে শুধু হেসে বলে
“আমি তো তোদেরই স্বপ্ন, তোরা আমাকে জাগিয়ে রাখিস কেন?”

তবু আমরা ডুব দিই, বারবার।
কারণ থামলে গভীরতা আরও গভীর হয়ে যায়,
আর মস্তিষ্কের সেই বেহায়া হাসি আরও জোরে বাজে।
“আয়,” সে বলে, “আরেকটু নিচে নাম।
দেখি কতদূর যেতে পারিস…

আরো পড়ুনঃ