নিজেকে খুঁজতে যাওয়ার সৎ সাহস কে রাখে?
নিজেকে খুঁজতে যাওয়ার সৎ সাহস কে রাখে? নিজেকে খুঁজে দেখার মতন সাহস রাখতে তুমি প্রস্তুত তো? এ কিন্তু এক ভয়ংকর সংগ্রাম। যারা নিজেকে খুঁজে চলছো তাঁরা মস্তিষ্কের গভীরতাকে উপলব্ধি করতে চেষ্টা করো। তুমি যদি সত্যিই নিজেকে খুঁজে পেতে চাও তাহলে আপাতত সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাও। আমি তোমাকে সমাজ থেকে এজন্য’ই বিচ্ছিন্ন হতে বলছি, কারণ নিজেকে খুঁজতে গিয়ে তুমি সমাজের কোনো কিছুকে নিয়ে’ই ভাবতে পারবেনা, তুমি যতদিন পর্যন্ত নিজেকে খুঁজে না পাও, ততদিন পর্যন্ত সমাজের দিকে তাকালে তুমি তোমার বিষয় সমূহকে হারিয়ে ফেলবে।
শোনো আমি আমার কথা বলছি, আমি বহুবার আমার ওয়াদাকে ভঙ্গ করেছি নিজেকে খুঁজতে গিয়ে, আমি বহুবার ওয়াদা করেছিলাম যে আমার জীবনকে একটি শান্তিপূর্ণ জীবন হিসেবে গড়ে তুলবো, কিন্তু আমি তা পারিনি। বহুবার আমার মন আমাকে ঠকিয়েছে, মন আমাকে তার নিজস্ব কাজে ব্যাবহার করেছে, এবং আমি আমার মনের চরণ ধরে বসে ছিলাম।
আমি আমার মনকে বলেছিলাম দেখো- আমি আমার জীবনের মানে বুঝতে চাইছি, আমি আমার জীবনকে একটি অর্থপূর্ণ জীবন বানাতে চাই, এতে তুমি আমাকে সাহায্য করতে না পারো অন্তত চুপ থেকে আমাকে আমার কাজ করতে দাও। কিন্তু আমার মন আমাকে অপরের ব্যাপার নিয়ে এমন ব্যাস্ত রেখেছে যে আমি আমার অনুসন্ধান ভুলে গিয়েছি এবং ব্যার্থ হয়েছি জীবনের মানে বুঝতে।
মনকে বললাম আমি তো একটি শান্তিপূর্ণ জীবন গঠন করতে চেয়েছিলাম কিন্তু তুমি তো আমাকে ইটের ভাটায় বসিয়ে শান্তনা দিয়ে চলছো? আমি তো আমার জীবনের মানে বুঝতে চেয়েছিলাম? কিন্তু তুমি তো অপরের জীবন ইতিহাস আমার সামনে এনে আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছো? আমি আমার জীবনকে একটি অর্থপূর্ণ জীবন হিসেবে গড়ে নিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি তো আমাকে অপরের জীবন দর্শন করিয়ে দিলে? মন! তুমি আমার সঙ্গী হয়েও আমার সাথে বেঈমানী করতে পারো? আমি যাকে আজ পছন্দ করলাম, কাল তাকে’ই তুমি আমার চোখে তিরস্কারের পাত্র বানিয়ে দিতে পারলে? আমি তো আমি কেন্দ্রিক হতে চেয়েছিলাম! কিন্তু তুমি আমাকে সমাজ কেন্দ্রিক বানিয়ে অপরের দোষ খুঁজে দেখার দায়িত্ব এনে দিতে পারলে? আমি একটি শৃঙ্খলা জীবন বানাতে চেয়েছিলা, কিন্তু তুমি আমাকে উচ্ছৃঙ্খল বানিয়ে দিতে পারলে! আমার জীবন তো একটি স্থির জীবন ছিলো, তুমি আমাকে অস্থির করে দেয়াটা কী ঠিক হয়েছে?
যখন থেকে আমি আমার মনকে তার সকল কার্যক্রমের উপরে প্রশ্ন করতে সাহস পেলাম, ঠিক তখন থেকে’ই মন নিজেকে গুটিয়ে নেয়া শুরু করে দিলো। তুমিও যদি একই ভাবে চৈতন্যতা উপস্থিত করে নিজেকে স্ব-অবস্থানে স্থির করতে পারো, তাহলে দেখবে তুমি কেবল তোমাকে’ই পাবে আর তুমি তোমার জীবনের মানে খুঁজে চলবে এবং নিরন্তর এগিয়ে যাবে জীবনের আসল উদ্দেশ্য জানার জন্য।
লেখা: বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ






