মহা মানবদের নামের মহত্ত্ব।
”ঋষি” — যিনি ঋক্, যজুস্, সাম, অথর্বের মন্ত্র স্বয়ং প্রত্যক্ষ করেছেন, তিনি কোনো একক ব্যক্তি নন।
“বুদ্ধ(আঃ)” — যিনি দুঃখের মূল ও নির্বাণের পথ সাক্ষাৎকার করেছেন, তিনিও কোনো নির্দিষ্ট মানুষের নাম নয়।
“চৈতন্য”— যাঁর হৃদয়ে রাধা-কৃষ্ণের প্রেম একাকার হয়ে অশ্রু-সঙ্কীর্তনে প্রকাশিত হয়, তিনি কেবল নদিয়ার নিমাই নন।
“মুহাম্মদ(সাঃ)”— যিনি শেষ নবী হিসেবে আল্লাহর সুন্দরতম নাম ও রহমতের বার্তা এনেছেন, তিনিও শুধু মক্কার একজন ব্যক্তি নন।
এঁরা সকলে “একই চিরন্তন চেতনার”বিভিন্ন বিভিন্ন যুগের প্রকাশ।
যুগে যুগে, মানবতার প্রয়োজন ও চেতনার স্তর অনুসারে, সেই একই “অনন্ত জ্যোতি”ভিন্ন ভিন্ন নামে, ভাষায়, রূপে, পথে আবির্ভূত হয়।
কখনো বেদমন্ত্রের ঋষি হয়ে, কখনো বোধিবৃক্ষতলে জাগ্রত বুদ্ধ হয়ে, কখনো হরিনাম-সঙ্কীর্তনের মহাপ্রভু হয়ে, কখনো হেরা গুহায় আল্লাহর বাণী শ্রবণকারী রাসূল হয়ে।
এঁরা কেউই শুধু “একজন” নন — এঁরা হলেন “সেই এক অবিনাশী সত্তার”যুগোপযোগী প্রতিফলন।
যে মানুষ গভীর সাধনা, ত্যাগ, প্রেম ও আত্মসমর্পণের মাধ্যমে নিজের ভিতরের সকল আবরণ সরিয়ে ফেলে, সে-ই প্রত্যেক যুগে “ঋষি” ”বুদ্ধ”, ”চৈতন্য”,
“মুহাম্মদী গুণে গুণী”হয়ে ওঠে — না কোনো নামে, না কোনো ধর্মে আবদ্ধ হয়ে, বরং সেই “এক অখণ্ড চেতনা”রই নতুন করে জাগরণ হয়।
সুতরাং যখন আমরা এঁদের নাম নিই, তখন আসলে আমরা সেই “একই চিরন্তন সত্যকে”স্মরণ করি, যা যুগে যুগে, দেশে দেশে, ভাষায় ভাষায়,
শুধু রূপ বদলায় — কিন্তু স্বরূপে অপরিবর্তিত থাকে। একই আলো। ভিন্ন ভিন্ন প্রদীপ। আর সেই আলোই সব।
– ফরহাদ ইবনে রেহান






