যার বোধ নেই সে ঈশ্বরকে মেরে ফেলেছে।
“যার বোধ নেই সে ঈশ্বরকে মেরে ফেলেছে,
এবং যার বোধ নেই সে নিজেও মরে গিয়েছে”
তুমি দুনিয়াতে এসে দুনিয়ার জন্য বোঝা হয়ে যাওয়া সম্ভবত শ্রেষ্ঠ পাপের মধ্যে এটি অন্যতম পাপ। দুনিয়া তোমার কাছে কি আশা করে? এটি অনুসন্ধান করা তোমার জন্য অতিব জরুরী বলে আমি মনে করছি।
প্রথমে’ই দুনিয়াতে তোমার দায়িত্ব থাকে:- এখানে এসে তুমি যেনো বোঝা হয়ে না যাও তার জন্য তোমার দরকার হবে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞা অর্জন করা এবং সাথে দরকার হবে তোমার কর্মদক্ষতা ও জীবনের কৌশল অবলম্বন করার জন্য চিন্তা চেতনা।
দ্বিতীয় দায়িত্ব থাকে:- তোমার কর্মকাণ্ড সমূহ ঈশ্বরের সাথে সম্পূর্ণ যোগাযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করবে কিনা তার অনুসন্ধান করা এবং তোমার কোন কর্ম সমূহ সরাসরি ঈশ্বরকে প্রভাবিত করবে তা নির্ণয় করে উপলব্ধি করা। জীবের সেবা করা মঙ্গল তবে এই জীবের কল্যাণে এমন কিছু করা যাবেনা যা তোমার ঈশ্বরের সাথে প্রতারণার সামিল হয়ে যায়।
তৃতীয়ত দায়িত্ব থাকে:- তোমার দেহ, মন ও সত্তাকে সঠিক ভাবে বুঝতে পারা। প্রথমে’ই বুঝতে হবে তোমার দেহ কোন কাজের অধীনে রয়েছে? খুঁজে দেখলে উত্তর পাবে যে মূলত দেহ তোমার ভিতরে লুকিয়ে থাকা বিষয় সমূহকে প্রকাশ করার মাধ্যম হিসেবে নিয়োজিত রয়েছে। এবং মন হলো তোমার কামনা-বাসনা অভিলাষ সৃষ্টি করার মূল, আর সত্তা হলো প্রজ্ঞার মূল বা বোধের স্রষ্টা।
এই তিনের সমন্বয়ে হলো তোমার দুনিয়া জীবন। মন ও সত্তা গোপন থাকে আর দেহ তোমাকে প্রকাশ করায়। দেখো দেহ আর মন সবার’ই থাকে কিন্তু বোধ খুব কম মানুষের কাছে’ই পাওয়া যায়, মানে সত্তার গুণ শূন্য থাকা বহু লোক রয়েছে। এজন্যই বলা যায়- যার মাঝে বোধ নেই সে কখনো আদম নয় সে হলো অধম। শোনো মানুষ শ্রেষ্ঠ কেন? দেহ আর মন আছে বলে’ই কি মানুষ শ্রেষ্ঠ?নাহ দেহ ও মন এটা পশুদেরও রয়েছে। পশুদেরও ইচ্ছা অনুভূতি উদ্দীপনা থাকে।
দেহ আর অনুভূতির দ্বারা পশু এবং মানুষের পার্থক্য করা যায় না। পশু আর মানুষের মাঝে পার্থক্য করা হয় প্রজ্ঞা বা বোধের অবস্থান দিয়ে যা সত্তার অধীন। এজন্য’ই প্রজ্ঞাহীন বা বোধহীন মানুষকে আমি মৃত বলে ঘোষণা করে থাকি। পশু আর মানুষের মাঝে পার্থক্য করা হয় একমাত্র সত্তার প্রভাব দিয়ে। শরীর আর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দেখতে আলাদা তবে প্রজ্ঞাহীন মানুষেরা কি কখনো ঈশ্বরের উপস্থিতি খুঁজে দেখতে চায়? নিজ ঈশ্বরের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করতেও কি তাদের লজ্জা হয়?
নিষিদ্ধ কর্মে লিপ্ত হলে গোপন আর প্রকাশ্যে বলে কিছু থাকেনা এই ভাবনা কি ওদের মাঝে থাকে? ওরা ভাবে নিষিদ্ধ কর্ম অন্ধকারে করলে’ই সেটা আর নিষিদ্ধ বলে গণ্য হবে না।
একজন ঘাতক, ঠক, বাটপার মানুষের যেমন দেহ রয়েছে সাথে মনও রয়েছে, একটা পশুরও তেমন দেহ রয়েছে মনও রয়েছে, তাহলে কেন’ইবা সে মানুষকে পশু বলা যাবেনা? সে তো নিজ ঈশ্বরকে হত্যা করেছে? তাকে আদম বলার যুক্তি কই? বোধহীন মানুষ যত’ই শিক্ষিত হোক আর ধনী হোক সে পশু’ই। যার বোধ নেই সে ঈশ্বরকে মেরে ফেলেছে, যার বোধ নেই সে নিজেও মরে গেছে।
একজন বোধ পূর্ণ মানুষের মাধ্যমে ঈশ্বর নিরাপদে জীবিত থাকে, আর নির্বোধ মানুষের কাছে ঈশ্বর মরে যায়, তাই যখন কোনো বোধ পূর্ণ মানুষ নির্বোধ মানুষকে নির্দেশনা দিয়ে থাকে তখন ঐ নির্বোধেরা পশু রূপে উপস্থিত হয়ে যায়, আর পশুদের মতন সেও বোধ পূর্ণ মানুষের কথা বুঝতে না পেরে বানরের মতন লাফালাফি করতে থাকে।
লেখা: বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ






