মানুষ কেন ধর্মকে গ্রহণ করেন?
মানুষ কেন ধর্মকে গ্রহণ করেন এ ব্যাপারে অনেক ব্যাখ্যা রয়েছে এবং অনেক ব্যাখ্যা থাকবে এটি স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু আমি মনে করি মানুষ ধর্মকে গ্রহণ করার জন্য শুরুর দিকে ধর্মগ্রহণের মূল বিষয় ছিলো তাদের জীবন ধারাকে একটা ভারসম্যের সাথে পরিচালনা করা, এবং এ ভারসাম্য কৌশল শিক্ষাটা’ই ছিল তখনকার সময়ের জন্য ধর্ম। আর যারা এ কৌশল শিক্ষা প্রচার করেছিলেন তাঁরা ছিলেন তখনকার সময়ে মানুষের জন্য মহামানব।
একটু লক্ষ্য করলে’ই দেখা যাচ্ছে যে প্রতিটি বর্বর সমাজে’ই একজন মহামানবের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, এবং তাঁরা পর্যায়ক্রমে এসে ধর্মেরপ্রবক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন৷ যতকাল পর্যন্ত মানুষ আবেগের সাথে ধর্মকে গ্রহণ করেনি ঠিক ততকাল পর্যন্ত’ই ধর্ম পাপ মুক্ত ছিলো বলে আমি মনে করছি৷ কিন্তু যে সময় কাল থেকে মানুষ ধর্মকে আবেগ দিয়ে গ্রহণ করা শুরু করেছেন, ঠিক সে সময় কাল থেকেই ধর্ম অত্যাচারী হিসাবে পরিচিত হয়েছেন৷ এখনকার মানুষেরা শুধুমাত্র আবেগের বশে ধর্মকে গ্রহণ করেন, যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের চিন্তাধারারও যে পরিবর্তন হয় তা প্রচলিত ধার্মিকেরা মেনে নিতে চায় না৷
বর্তমান সময়ে মানুষেরা ধর্মকে প্রখর ভাবে আবেগ দিয়ে জড়িয়ে রেখেছেন, যার ফলে সমস্ত ধর্ম এখন ভয়ের উপর ভিত্তি করে’ই গড়ে উঠতে শুরু করেছে। কি সেই ভয়? সে এক আবেগের ভয়, এক অজানাকে আবেগ দিয়ে তৈরি করা ভয়, মৃত্যুর ভয় এবং নরকের ভয়। এ সময়ে ধর্ম টিকে রয়েছে শুধুমাত্র আবেগের তৈরি করা ভয়ের উপর ভিত্তি করে, আর এক অবাস্তব রহস্যময় ভিত্তি’কে কেন্দ্র করে’ই এখন ধর্মকে নতুন করে আহবান করতে যাচ্ছে নিষ্ঠুরতা, তাই বলা যায় এখন ধর্ম যেখানে নিষ্ঠুরতারও সেখানে৷
বর্তমান সময়ের ধার্মিকেরা তোমাদেরকে ঝুঝুর ভয় দেখাতে বেশ পারদর্শী, আবেগের ভয়কে তাঁরা এখন বাস্তবে পরিনত করেছে। ধার্মিকেরা তোমাদেরকে বুঝাতে চাইবে যে, ধর্ম এটা বলেছে, ধর্ম ওটা বলেছে, আর তোমরা তা না করলে নরকবাসী হবে৷ তাঁরা হাজার বছর আগের কল্পনাকে এখন বাস্তব রূপে মানুষকে বুঝাতে চাইছে। আমি বলতে চাইছি যে, বর্তমান সময়ে যারা আবেগের উপর ধর্মকে আঁকড়ে ধরেছে তাঁরাই ‘সর্বোচ্চ রকমের বদমায়েশ হয়েছে বলে আমি মনে করছি৷
তোমরা একটু খেয়াল করলে’ই দেখতে পাবে যদি কোনো দেশে ধর্মীয়দের রাজত্ব চলে তবে সেই দেশে নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতা তীব্র থেকে অতি তীব্র হয়ে ওঠে৷ সবচেয়ে প্রাচীণ এবং ক্ষমতাশীল ধর্মের মাঝে আমরা খ্রিষ্টান ধর্মকে’ই বুঝি, খ্রিস্টীয়রা দাবি করেন যে তাঁরা যীশুর নীতি অনুসরণ করেন৷ কিন্তু আমি দেখতে পেয়েছি যে তাঁরা কখনো’ই যীশুর নীতি অনুসরণ করেন না৷
যেমন মথি ৫:৩৯ যীশু বলেছেন “তোমরা শুনেছো যে বলা হয়েছে, ‘চোখের বদলে চোখ, আর দাঁতের বদলে দাঁত। ‘কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, দুষ্টের প্রতিরোধ করো না; বরং যে কেউ তোমার ডান গালে চড় মারে, তার দিকে অন্য গালটিও বাড়িয়ে দাও।”
যীশুর এ নীতিকে খ্রিস্টীয়রা কতটুকু অনুসরণ করে নিজেদেরকে খ্রিষ্টান দাবি করছেন? তোমরা যেনে থাকবে, দেশে দেশে যত দাঙ্গাহাঙ্গামা হয় তা পরিচালনা ক্ষেত্রে বেশিরভাগ’ই খ্রিস্টীয়রা বিশাল ভুমিকা পালন করে আসছে। আমি বলতে চাই যে উল্লেখ্য যীশুর মথি ৫:৩৯ এর যে আদেশটি রয়েছে উহা যীশুর জন্মেরও প্রায় পাঁচ থেকে ছ’শ বছর আগে লাও্যৎসে’রাও এ আদর্শকে মেনে করে চলতেন৷ এই উপদেশ মথিতে এসেছে এর মানে এই নয় যে এটি শুধুমাত্র যীশু একা দিয়েছেন৷ যেহেতু যীশুর মথি’তে উক্ত উপদেশটি পাওয়া যায়
সেহেতু এটিকে এখন যীশুর আদেশ বলেই ধরা যাক, আমার প্রশ্ন, ঘোর খ্রিস্টীয়রা কি এই আদেশকে কখনো মেনে চলে? যদি মেনে চলে তবে বর্তামান এবং পূর্বের ইতিহাসে কোনো পোপকে কি সাধারণ ব্যাক্তিরা চড় মারতে পেরেছিলেন? এবং কোন পোপ কি চড় খেয়ে তার অপর গাল’টি পেতে দিয়েছিলেন? এরকম নজির কি কেহ আমাকে দেখাতে পারবে? যদি পারো তবে সে ইতিহাস’টি আমাকে অবগত করে দাও, কিন্তু আমি অনেক চেষ্টা করে দেখেছি কখনো এরম নজির পাইনি৷
যীশু আরও বলেন যে “নিজেকে বিচার না করে কখনো অপরকে বিচার করতে যেও না।” আমার মনে হয় না যীশুর এ নীতি বর্তমান ও পূর্বের কোনো খ্রিষ্টানরা মেনে চলেছেন৷ যীশু আরও বলেন যে “তাকে তাই দাও যা সে তোমার কাছে চাইছে, এবং তাকে যা ধার দিয়েছো তা তার কাছ থেকে ফিরিয়ে নিও না।” এটি একটি অতি চমৎকার উপদেশ, কিন্তু আদৌ কি খ্রিস্টীয়রা এমন আদেশ মান্যকরে চলছেন? এর উত্তর তোমরা খ্রিস্টীয় রাজত্ব চলে এমন দেশের দিকে তাকালে’ই পেয়ে যাবে৷
সর্বোপরি আমার সার কথা হলো এই যে, মানুষ কেবল আবেগের বশে ধর্মকে অনুসরণ করে’ই চলছেন, তাঁরা এক অজানা অচেনা ভয়ের উপরে দাঁড়িয়ে ধার্মিক সেজেছেন। যীশুরা স্বর্গ নরক নিয়ে খুব বেশি কথা বলেনি, কিন্তু তাদের অনুসারীদেরকে পরকাল, স্বর্গ এবং নরক, এই কয়েকটি কথাকে বাদ দিয়ে আলোচনা করতে বললে তাদের কথা বলার জন্য আর কিছু’ই থাকবেনা৷
লেখা: বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ






