হোম বাণী ও উপদেশ ধর্মগুরুদের ভন্ডামী নিয়ে মাওলানা রুমীর বর্ণিত ঘটনাঃ

ধর্মগুরুদের ভন্ডামী নিয়ে মাওলানা রুমীর বর্ণিত ঘটনাঃ

ভাষান্তর: Bangla | English | Hindi | Arabic | Persian

ধর্মগুরুদের ভন্ডামী নিয়ে মাওলানা রুমীর বর্ণিত ঘটনাঃ

জালালুদ্দীন রুমী (রহ.) বলেনঃ সেই বেদ্বীনক উজীর ধর্মের নসীহত প্রদানকারী সেজে বাদামের হালুয়ায় রসুন মিশ্রিত করে দিতেছিল। কিন্তু যারা (আল্লাহওয়ালা লোকের খেদমতে থেকে) বিচারশক্তি প্রাপ্ত হয়েছেন; তারা তার কথায় আনন্দ অনুভব করতেন, কিন্তু সেই সাথে তিক্ততাও অনুভব করতেন। সে ধর্মের সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম কথাসমূহ বলত, কিন্তু সেই সাথে দুষ্টামী ও গোমরাহীর কথাও বলতে থাকতো। যেমনঃ বিষ মিশ্রিত মিশ্রির শরবত।

সাবধান! এধরনের শ্রুতিমধুর কথায় কখনো ধোঁকায় পড়ো না; কেননা তার ভিতরে শত শত শয়তানী বা খারাপী লুকিয়ে রয়েছে। অসৎ লোকের কথাবার্তাও অসৎ মনে করো, মৃত ব্যক্তি যা বলবে তা নিষ্প্রাণই হবে। মানুষের কথা মানুষের একটি অংশবিশেষ, যেমন রুটির টুকরা নিঃসন্দেহে রুটিই হয়ে থাকে।

ওহে শ্রোতাগণ, শোনো! মাওলা আলী (আঃ) বলেছেন- “মূর্খদের কথাবার্তা হল আবর্জনার স্তূপে শ্যামল (বাগান) এর ন্যায়।” এই ধরনের ঘাসের উপর যদি কেউ বসে, তবে নিঃসন্দেহে সে নাপাকী ও ময়লার উপর বসল। এমতাবস্থায় নিজেকে ঐ নাপাকী হতে ধুয়ে পরিস্কার করতে হবে, যাতে তার ফর‍্য নামাজ বাতিল না যায়।

উজির প্রকাশ্যে এটা বলত যে ‘তোমরা (আল্লাহর) পথে কর্ম তৎপর হও। কিন্তু প্রতিক্রিয়ার দিক দিয়ে বলত ‘কর্মবিমুখ হও’। (উজিরের উপদেশাবলী এমন ছিল যেমন) যা দৃষ্টিতে রৌপ্যের ন্যায় সাদা ধবধবা মনে হয় কিন্তু উনার ঘর্ষণে হাত ও জামা আলকাতরার মত কালো হয়ে যায়।

অগ্নি যদিও স্ফুলিঙ্গসমূহের মাধ্যমে লাল বর্ণ দেখা যায়, কিন্তু তুমি তার ক্রিয়ার পরিনতি দর্শন করো (বস্তুসমূহ জ্বালিয়ে কেমন কালো ছাই করে দেয়)। বাহ্যিক দৃষ্টিতে বিদ্যুৎ তীব্র উজ্জ্বল আলো দেখা যায়, কিন্তু স্বভাবের দিক দিয়ে সে দৃষ্টিশক্তি অপহরণকারী চোর।

বিজ্ঞ এবং (ধর্মীয়) রুচিসম্পন্ন লোক ব্যতীত যত লোক ছিল, উযীরের কথা ছিল সবার গলার হার।

এই কথাগুলো মাওলানা রুমী (রহঃ) একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপরের কথাগুলো বলেছিলেন। ঘটনাটা এরকম ছিল-

ইহুদি রাষ্ট্রের উজির খ্রীষ্টানদের ইহুদী বানানোর জন্য খ্রীষ্টানদের সাথে মিশল, এবং খ্রীষ্টান ধর্মের বানী প্রচার করতে লাগল নিজে ইহুদী হওয়া স্বত্তেও। সবাই তার কথায় মুগ্ধ হতে লাগল শুধু বিজ্ঞ ব্যক্তিরা ছাড়া। এভাবে তিনি বিশ্বাস অর্জন করলেন সকল খ্রীষ্টানদের। তারপর সে খ্রীষ্টানদের মাঝে মতানৈক্য তৈরি করে দিয়ে দাঙ্গা লাগিয়ে দিলেন, খ্রীষ্টানরা নিজেরা নিজেরা যুদ্ধ করে ধ্বংস হয়ে গেল, এবং ইহুদী রাজা জয় লাভ করল তার উজীজের মাধ্যমে।

মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী (রহঃ) এই ঘটনা ও এই কথা গুলো বর্তমানের অনেক ধর্ম প্রচারকদের জন্যে তাঁর মসনবী শরীফে উল্লেখ করে গিয়েছিলেন। একটু মিলিয়ে নিন কথা গুলো, আপনিও বুঝতে পারবেন সত্যটা।

বর্তমান জামানার কিছু ধর্ম গুরুদের লেকচার সবার কাছেই মধুর মত লাগে। কিন্তু এই মধুর মাঝে যে বিষ আছে তা আমাদের সাধারন ধর্ম প্রাণ মানুষগুলো বুঝে উঠতে পারতেছি না।

কেউ উনাদের কথা কুরআন, হাদিস, গীতা কিংবা বাইবেলের সাথে মিলিয়েও দেখতেছি না আমরা। যা বলছেন তারা তাই অন্ধের মত বিশ্বাস করে যাচ্ছি। আমি বলছি না তারা ভুল রেফারেন্স দিচ্ছেন, কিন্তু আমরা ত সেটাও যাচাই করছি না।

তারা কুরআন, হাদিস, গীতা ও বাইবেলসহ অনেক ধর্মের কথা মুখস্থ করে তা সবার কাছে বলছে এবং নিজের ধর্মের ভাল কথা প্রচার করে। আর অন্য ধর্মগুলোর থেকে খুঁজে খুঁজে এমন তথ্য বের করে প্রচার করে যাতে অন্য ধর্মগুলোকে মানুষ খারাপ ভাবে।

আমার কিছু বলার নেই উনাদের নিয়ে, আমি শুধু মহাজ্ঞানী ও মহামানব জালালুদ্দীন রুমী (রহ) এর বাণীগুলো উপস্থাপন করে গেলাম। জ্ঞানীরা অবশ্যই বুঝতে পারবেন।

হে প্রভু! আপনি সেসব ধর্মগুরু ও তাদের অনুসারীদের সবাইকে হেদায়েত দান করুন, আপনি হেদায়েত না দিলে এই পরিস্থিতিতে আমরা পথভ্রষ্ট হয়ে যাবো।

লেখাঃ DM Rahat
YouTube: Sufism BD

পূর্ববর্তী পোস্টগুরু যেভাবে শিষ্যকে পাপ মুক্তি দান করেন
পরবর্তী পোস্টঈসা (আঃ) ও শয়তানের মধ্যে ঘটা একটি শিক্ষণীয় ঘটনা।
"আমি মানুষেরেই পূজি, মানুষের মাঝেই আমি আল্লাহ-গড-ভগবানকে খুঁজি।"

এই পোস্টে একটি মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন