হোমপেজ বাণী ও উপদেশ দেওয়ান আব্দুর রশিদ আল চিশতী নিজামীর বাণী

দেওয়ান আব্দুর রশিদ আল চিশতী নিজামীর বাণী

দেওয়ান আব্দুর রশিদ আল চিশতী নিজামীর বাণী

হযরত খাজা শাহ সুফি দেওয়ান আব্দুর রশিদ আল চিশতী নিজামী (রহঃ) এর মাজার শরীফ-  কলাহাটা, ঝিটকা শরিফ, হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ। তিনি কুষ্টিয়া জেলার অন্তর্গত কুমারখালিতে ১৮৩০ খৃষ্ঠাব্দে জন্মগ্রহন করেন। এবং ১৯১৯ খৃষ্ঠাব্দে, বাংলা ১৩ই ভাদ্র (১১০ বছর) বয়সকালে তার কর্ম ক্ষেত্র ঢাকা জেলার অন্তর্গত ঝিটকা নামক গ্রামে ইন্তিকাল করেন।

হযরত খাজা শাহ সুফি দেওয়ান আব্দুর রশিদ আল চিশতী নিজামী (রহঃ) এর মাজার শরীফ

(১) “বস্ত্র ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গাদি শুদ্ধ করে নামাজে নিরত হওয়া প্রকৃত মুসলমানের কর্তব্য।”

(২) “আল্লাহর প্রেমে মগ্ন হয়ে কালেমার গূর তত্ত্ব অনুসন্ধান করাই সত্যবাদির মূল উদ্দেস্য।”

(৩) “আল্লাহ পাক নিজে পবিত্র, তিনি পবিত্রতা পছন্দ করেন এবং মানুষের মনের খবর রাখেন।”

(৪) “পাক পবিত্র না হলে সালাত নামাজ আদায় হবেনা।”

(৫) “আল্লাহকে অন্তঃকরনের মধ্যে স্থান না দিলে তার প্রিয় পাত্র হওয়া অসম্ভব।”

দেওয়ান আব্দুর রশিদ আল চিশতী নিজামীর বানী

(৬) “রোজা রাখো সর্ব অঙ্গে, হস্ত, পদ, চক্ষু কর্ণে। জিহাদে নফসের সাধনে, থাকো সদা নূরের ধ্যানে।”

(৭) “বাতেনি দিলের ভেতর এক আল্লাহ্ ব্যাতিত অন্য কাউকে স্থান দেওয়া চলবেনা।”

(৮) “আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা তার নূর দেখান, অথবা সেইদিকে পথ দেখান, যেমন সূরা নুরের পঞ্চম রুকুতে বর্ণিত আছে- লেনুরিহি মাইয়া শাউ।”

(৯) “একটাই সরল পথ। হিংসা দ্বেষ পরনিন্দা, পরচর্চা -এসব কার্য থেকে বিরত থাকতে হবে।”

দেওয়ান আব্দুর রশিদ আল চিশতী নিজামী

(১০) “মিথ্যা কথা বলা, নিষিদ্ধ বস্তু আহার করা, বিশ্বাস ঘাতকতা করা, পরস্ত্রী ধর্ষণ করা ও কারো মনে কষ্ট দেওয়া এসব থেকে নাবৃত্ত হতে হবে।”

(১১) “মনন ঠিক রেখে শরিয়তের বিধান মতে নামায আদায় করতে হবে, আহম্মাদি মতে নামাজ পরা দরকার, আলিফ হা মিম দাল, এই চার হরফে আহাম্মাদ লেখা যায়, নামাজের সময় যিনি সর্বদা নামাজে দন্ডায়মান থাকেন তারই নামাজ প্রতিষ্ঠিত হলো।”

(১২) “কিয়াম রুকু সেজদা কওদ, আহম্মাদি কদ বলা হয়। উক্ত কদদের দুই হরন ও দুই পূরনে ধ্যানস্থ হয়ে যার নামাজ হয় সে নামাজে আহাদ – আহম্মাদ ও আদমের ভেদ রহস্য বোঝা যায়।”

দেওয়ান আব্দুর রশিদ আল চিশতী নিজামীর কালাম—

(১৩) “যদি মৌলবি সেজে কুরান না বুঝে নামের মৌলবি সে। নহে কোন কাজে, সাজিয়া আলেম হইলে জালেম লানতের তখত পড়িবে গলায়।”

(১৪) “চিনবি যদি আল্লাহ্ নবিরে আমার মন বেলায়েতে আয়। মুর্শিদের নাম স্বরনে মুক্ত মানব হয়।”

(১৫) “সঙ্গেতে আর কেহু নাই তুমি আমি দুজনাতে, একে মিশে রই। সাথে থেকে দেখাও দূরে, চিনিতে কেহ নাহি পারে, আকাশ পানে উর্দ্ধস্বরে, ডাকেন সবাই। সর্বস্থানে তোমারই স্থান, জানেনা কেহ এ সন্ধান। তুমি আমার প্রাণেরই প্রাণ, আমি দাসী হই। অশুচি ও তুমি শুচি, তুমি হাড়ি তুমি মুচি, দেওয়ান রশিদ বলে তোমার সাজ দেখে অবাক হই।”

(১৬) “খোদা নিকটে আছে বান্দা আছে দুরে, দুরে থেকে বন্দেগী তাহার হয় কি প্রকারে, নিকটে এসে সেজদা কর খোদায় ডেকে বলে জাহেরাতে আছে খোদা বান্দা আছে পুশিদায়।”

অর্থ্যাৎ:- সূফি আল্লাহকে কাছে জেনে ইবাদত করায় বিশ্বাসি। বান্দা যদি আল্লাহ থেকে দুরে থাকে তাহলে তার বন্দেগী করার কোন অর্থ নেই।

হযরত খাজা শাহ সুফি দেওয়ান আব্দুর রশিদ আল চিশতী নিজামী (রহঃ) এর মাজার শরীফ

তথ্যসূত্র:
বাংলাদেশের সূফি সাধক পৃং ২০১.
ডক্টর গোলাম সাকলায়েন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

ভালোবাসার ৪০ নিয়ম – জালাল উদ্দিন রুমি (পর্ব-১)