হোমপেজ কারবালা ও ইমাম হোসাইন মুহররম আসলে আমরা কেন শোক মাতম করি

মুহররম আসলে আমরা কেন শোক মাতম করি

মুহররম আসলে আমরা কেন শোক মাতম করি

– স্মারক অনুষ্ঠান পালনের দৃষ্টান্ত
– সৈয়দ কুতুবউদ্দিন আহমেদ আল হোসাইনী চিশতী

স্মারক অনুষ্ঠান পালনের দৃষ্টান্ত আমরা মহানবীর (সা.) পূর্বপুরুষ হযরত ইব্রাহিম (আ.), হযরত ইসমাইল (আ.) থেকে পাই। যেমন:- বিবি হাজেরা (আ.) ও নবজাতক শিশু হযরত ইসমাইলকে (আ.) কিছু খাবার ও পানিসহ নির্জন মরু প্রান্তরে মহান আল্লাহর আদেশে রেখে আসেন। পানি ফুরিয়ে গেলে বিবি হাজেরা (আ.) পানির জন্য ‘সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ে ছোটাছুটি করেন। বিবি হাজেরার সেই ছোটাছুটির স্মৃতি রক্ষার্থে মহান আল্লাহ সাফা-মারওয়ায় স্থায়ী দৌড়ানোকে হজের অঙ্গরূপে বিধান করে দেন।

বিবি হাজেরার সেই ছোটাছুটির পবিত্র ব্রতকে আজও প্রতিটি হাজী পালন করে থাকেন। যাতে ঐ অবিস্মৃত কীর্তি চিরজাগ্রত থাকে। হযরত ইসমাইলকে (আ.) কোরবানী করার জন্য যখন মিনায় নেয়া হয় তখন তিন শয়তান তিনটি স্থানে ধোকা দেয়ার চেষ্টা করে। উক্ত তিন স্থানেই ঐ তিন শয়তানকে ঘৃণাভরে হাজীরা কঙ্কর-পাথর নিক্ষেপ করেন। তাঁদের এ কৃতকর্মের স্মরণার্থে ঐ তিন স্থানেই স্তম্ভ করে রাখা হয়েছে।

স্তম্ভ তিনটিকে বড় শয়তান, মধ্যম শয়তান ও ছোট শয়তান বলে অভিহিত করা হয়। প্রতিবছর হজের মৌসুমে প্রত্যেক হাজীকেই ঐ তিন স্থানে কঙ্কর নিক্ষেপণকে হজের অঙ্গ করে দেয়া হয়েছে। হযরত আদম (আ.) ও হযরত হাওয়া (আ.) বেহেশত থেকে অবতরণ করার পর ঐতিহাসিক আরাফাতে তাঁদের সাক্ষাত হয়। তাঁদের স্মরণে অনুষ্ঠিত হয় অকুফে আরাফা (আরাফাত প্রান্তরে অবস্থান) হাজীদের ঐ সব কাজকে জড়পূজা বলা হয় না। তদ্রূপ ইমাম হোসাইনের স্মরণ মানবসমাজে জাগ্রত থাকার জন্য বিভিন্ন প্রকার শোকানুষ্ঠানও জড়পূজা নয় ৷

আল্লাহর অলিগণের পুণ্য, স্মৃতি ও নিদর্শনসমূহ যেমন পবিত্র রওজা পূর্ণ মর্যাদার সাথে সংরক্ষণ করা ও সেগুলোকে ভক্তিভরে চুম্বন করা, ফুল, গিলাফ, আতর, বাতি দিয়ে সাজানোও জড়পূজা নয়। এতে অলিগণের প্রতি সম্মানই প্রদর্শন করা হয়। অলিগণকে সম্মান করাই আল্লাহকে সম্মান করার নামান্তর। অলিগণের মহব্বতেই আল্লাহর মহব্বত বৃদ্ধি পায়।

কারণ তারা আল্লাহর গুণে গুণান্বিত এবং আল্লাহর ধর্মের নিদর্শন। তাঁদের স্মরণে আয়োজিত বিভিন্ন প্রকার আচার অনুষ্ঠানকে জড় পূজা মনে করা অজ্ঞতারই পরিচায়ক। ফাতাওয়ায়ে আফরিকায় ১০০ পৃষ্ঠায় হযরত আহমদ রেজা খান সাহেব লিখিছেন, “তিরমিজি ও ইবনে মাজা শরিফে বর্ণিত আছে, যে সব স্মারক অনুষ্ঠান ও কার্যক্রম সত্যাশ্রয়ী লোকদের মনে অনুপ্রেরণা দান করে তা কখনও হারাম হতে পারে না যদি এসব ব্যাপারে কোরান কিংবা সুন্নাহর প্রত্যক্ষ নিষেধাজ্ঞা না থাকে” ।

সূত্র:- নিয়ামতে খোদা আহলে বাইতে মোস্তফা